এখন সময় :
,

মিরসরাইয়ে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই>>
টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ। চট্টগ্রামের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার প্রায় ৯০ একর মৎস্য প্রকল্প থেকে এসব মাছ ভেসে গেছে। এতে করে চরম ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছে প্রায় শতাধিক মৎস্য চাষী।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওছমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। অনেক চাষী বাঁধ মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা করেও পানিরে ¯্রােতের কারণে পেরে উঠছেনা। ওছমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী মৌজায় অবিস্থত আবুল খায়ের হেঞ্জু, নুরুন্নবী, আবুল কাশেম, আলম মিয়া, তাহের মুন্সি, ফারুক, কাঙ্গাল জলদাশ, বাসু দেব, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন হেঞ্জু, ইউসুফসহ ৫৫ জন মৎস্য চাষীর চাষকৃত প্রায় ১৩ একর প্রকল্পের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।
মৎষ্য চাষী আবুল খায়ের হেঞ্জু ও নুরুন্নবী জানান, কয়েক মাস পূর্বে আমাদের ৫৫ জনের মালিকানাধীন ১৩ একর প্রকল্পে চিংড়ি, তেলাপিয়া, মৃগেল, কাতাল, রুই, পাঙ্গাস, গ্লাস কার্প, শিং, মাগুরসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছের পোনা দিয়েছি। খাদ্য, মেডিসিনসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এবারের ভারি বর্ষণে প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে ফেনী নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে সব মাছ ভেসে যায়। তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ফেনী নদীতে নির্মিত মুহুরী প্রজেক্ট সেচ প্রকল্পের গেইট বন্ধ রাখার কারণে জোয়ারের পানি প্রকল্পে ঢুকে আমাদের সর্বনাশ করেছে। এছাড়া মুহুরী প্রকল্প এলাকায় চাষকৃত আনোয়ার এগ্রোর প্রায় ৮ একর প্রকল্প থেকে মাছ ভেসে যায়। মৎস্য চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে প্রকল্প থেকে বড় সাইজের তেলাপিয়া, মৃগেল, রুইসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে করে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছি আমি। ইছাখালী এলাকায় চাষ করা কামাল উদ্দিনের ১০ একর, নুরুল আবছারের ২৫ একর, সাব্বিরের ১৫ একর, ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ৮ একর, মিজানুর রহমানের ১০ একর মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
মৎস্য চাষী কামাল উদ্দিন বলেন, আমার ১০ একর প্রকল্পে মাছ চাষ করেছি। নিয়মিত প্রকল্পে কঠোর পরিশ্রম করছি। কিন্তু যখন মাছ বাজারে বিক্রি করবো ঠিক তখনি জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে সব মাছ চলে গেছে।
মৎস্য চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের ৬ষ্ঠ সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্টের গেইটগুলো বন্ধ করে রাখার কারণে তারা এমন ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে ফেনী নদীতে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছে কিছু লোক। মূলত তাদের সুবিধা দিতে গিয়ে আমাদের চরম ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এই বিষয়ে স্লুইসগেইটের দায়িত্ব থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুল আবছার জানান, ৪০টি গেইটের মধ্যে ২০ টি গেইট সবসময় খোলা থাকে। বন্ধ গেইটগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় রবিবার দুপুর পর্যন্ত খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে জোয়ার আসা মাত্র গেইটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। অসাধু মৎস্য চাষীদের সাথে আঁতাতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় জোয়ারের পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার বিষয়টি কোন চাষী আমাকে জানায়নি। তারপরও আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

নোটিশ :   FeniVision24.com প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন, সম্পাদক: জহিরুল হক মিলু
ইমেইল : fenivision@gmail.com, মোবাইল: 01823644138, 01841710509
ঠিকানা: ৪৩১ সোনালী ভবন(২য় তলা) ট্রাংক রোড়, ফেনী