এখন সময় :
,

..যুক্ত কর হে সবার সঙ্গে, মুক্ত কর হে বন্ধ

জহিরুল হক মিলু>>
গণমাধ্যম কর্মী শুনলে প্রত্যেকের কমন প্রশ্ন প্রেসক্লাব কবে খুলবে?। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিশেবে এ প্রশ্নের জবাব আমার আছে নেই । গত কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সামাজিক গনমাধ্যম হিসেবে পরিচিত ফেসবুকে ফেনী সিটিজেন ভয়েস নামে একটি গ্রæপের মাধ্যমে কিভাবে নাগরিকরা তাদের সমস্যা স¤ভবনা নিয়ে প্রশাসনিক সেবা পেতে পারে এমন এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক জনাব আমিন উল আহসানকে প্রেসক্লাবের তালা খোলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান এটা স্পর্শকাতর বিষয় অন্য ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

লেখার শুরুতে আসি কেন প্রেসক্লাব বন্ধ হলো? সে কথা সকলের জানা। ঠিক এক বছর আগে ২০১৬ সালে ৩ মে বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস পালনের জন্য যখন সাংবাদিকরা প্রস্ততি নিচ্ছে তখন সাংবাদিক নামদারী একদল দুর্বৃত্ত বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে ক্লাব সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন আরো ৫ সাংবাদিক। এ ঘটনার রেশ ধরে পরদিন জেলা প্রশাসন প্রেসক্লাবের মুল ফটকে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেয়।
এ কথা সকলে জানে নিরব জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি হচ্ছে সাংবাদিক। জনগনের মনের কথা চোখের ভাষা প্রকাশ করে সাংবাদিকরা।দীর্ঘদিন প্রেসক্লাব বন্ধ থাকায় ফেনীর গোটা জনগোষ্ঠি তাদের কথা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলতে পারছেনা।
উচ্চ আদালতের এক বিচারক সম্পতি একটি রায়ের পর্যবেক্ষনে বলেছেন এক এগারোর শাসন ছিল জংলী শাসন। সে সময়কার অর্থাৎ
দশ বছর আগের ফেনী প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র বর্তমান সময়ের জন্য অচল। ওই গঠনতন্ত্র প্রণীত হয় ২০০৮ সালে- ওয়ান ইলেভেনের সময়। যৌথবাহিনীর তৎকালীন ফেনীর অধিনায়ক লে.কর্ণেল কামরুজ্জামানকে ভুলবাল বুঝিয়ে কতিপয় সাংবাদিক ওই গঠনতন্ত্রটি পাশ করিয়ে নেয়। তখনও এর নানা অসঙ্গতি নিয়ে কেউ কেউ আপত্তি তুললেও তা কেউ আমলে নেয়নি।

ক্লাব গঠনতন্ত্রে আছে-কেউ কোন সামাজিক বা ব্যাবসায়ীক সংগঠনের সাথে সম্পৃত্ত হলে ক্লাবের সদস্য হতে পারবেন না। কেউ কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে সদস্য হবেন না। স্থানীয় পত্রিকার ক্ষেত্রে শুধু সম্পাদকরা সদস্য হতে পারবেন। তবে ব্যাবসায়ী হলে সদস্য হতে পারবেন না। সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে বিএ বা তার সমমান। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকেন। কিন্তু তারা যদি পেশাদার সাংবাদিক হন, তারা যদি কাগজ বের করেন তাহলে তাদের সদস্য পদ দিতে সমস্যা কী ? কিন্তু ক্লাবের বর্তমান গঠনতন্ত্রে এ সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশে অনেকগুলো জাতীয় মানের বার্তা সংস্থা ও অনলাইন পত্রিকা রয়েছে। এদের প্রতিনিধিও আছে সারাদেশে। কিন্তু ক্লাব গঠনতন্ত্রে এসব বার্তা সংস্থা-অনলাইন পত্রিকার প্রতিনিধির সদস্য হবার সুযোগ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে সদস্য হতে না পারার নজির আর কোথাও নেই। রাষ্ট্র যদি বিএ পাশের সনদ ছাড়া একজন সম্পাদককে পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি (ডিক্লারেশন) দেয়, তবে ক্লাব কেন তাকে সদস্যপদ দেবেনা। সব মিলিয়ে এখন গণমাধ্যমও অনেক বেশি। কিন্তু পেশাদার সাংবাদিকদের এক বড় অংশ ফেনী প্রেস ক্লাবের সদস্য হবার সুযোগ পাচ্ছেনা। এদের সদস্য হতে হলে গঠনতন্ত্রে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। তাই ফেনী প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

যারা একটু সচেতন তারাতো জানেনই ফেনী প্রেসক্লাবে দির্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের সংকট চলছিল। পেশাদার সাংবাদিকদের এক বড় অংশ ক্লাবের বাইরে থাকায় সংকট চরম আকার ধারণ করে। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে প্রধান দুই পদে প্রায় একই মুখ ঘুরেফিরে দেখা যাচ্ছিল। সদস্য সংখ্যা কম থাকার কারণে ১৫ সদস্যের কেবিনেট পূর্ণ করার পর আবার সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে অডিট কমিটি করা, ভাউচার নীরিক্ষা কমিটি করা সম্ভব ছিলনা। অতিসম্প্রতি এর সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৩ তে নেমে আসায় সংকট আরো ঘনিভূত হয়। তার ওপর যারা বিভিন্ন বিষয়ে কোন কোন নেতার সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচারণ করেন, তাদেরবিরুদ্ধে দমননীতি গ্রহন করায় আস্তে আস্তে অনেকের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। ফলে ক্লাবের একটি অংশ ব্যার্থ কমিটির প্রতি অনাস্তা জানিয়ে জরুরী তলবী সভা ডেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাইরে অবস্থানরত সাংবাদিকের সদস্য করে নতুন কমিটি গঠন করেন। এসময় তথাকথিত সিনিয়র ও এ পেশায় অর্বাচিন নেতারা কমিটির বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা, উকিল নোটিশ পাঠানো এবং সর্বশেষ গত বছরের ২ মে সন্ধ্যায় ইতিহাসের নারকীয় ঘটনা ঘটায় এ অপশক্তি। এ সময় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে ক্লাবে হামলা চালিয়ে প্রেসক্লাব সভাপতিকে হত্যা প্রচেষ্টা চালায়।

আজ বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবসে ফেনীতে কর্মরত সকল সাংবাদিক সমাজকে একজায়গায় একতাবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছি । এতে প্রেসক্লাবে হামলাকারীদের বিচারের কাজ সমৃণ হবে। সব-সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার আশা করা যাবে তখনই। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি অবিলম্বে ফেনী প্রেসক্লাবের তালা খুলে দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
প্রিয় স্বদেশে মুক্ত হোক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম।

নোটিশ :   FeniVision24.com প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন, সম্পাদক: জহিরুল হক মিলু
ইমেইল : fenivision@gmail.com, মোবাইল: 01823644138, 01841710509
ঠিকানা: ৪৩১ সোনালী ভবন(২য় তলা) ট্রাংক রোড়, ফেনী