এখন সময় :
,

ফেনীর এক কৃতি সন্তান রফিকুল হক ঝণ্টু

b4729f46445ee1602faa837036b1e94f-img_3348
 গিয়াস উদ্দিন লিটন >>
স্বাধীনতার পরবর্তী ৪০ বছর চলচ্চিত্রের পোস্টার , ব্যানার দেখেছেন, অথচ ‘ঝণ্টু আর্ট‘ শব্দ দুটির সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুজে পাওয়া বিরল।
প্রতিষ্ঠানটির পুরো নাম ঝন্টু আর্ট পাবলিসিটি। মালিক একজন পেশাদার পোস্টার আঁকিয়ে, ফেনীর কৃতি সন্তান রফিকুল হক ঝণ্টু। 
 রফিকুল হক ঝন্টু ১৯৫৩ সালে ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার গনিপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
পিতার চাকরীর সুবাদে ছোটবেলায় ঢাকায় চলে আসেন। পড়া লিখায় তেমন মনোযোগ ছিল না , স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতেন। ঠিক সিনেমাও নয় ,সিনেমার চেয়ে তার আগ্রহ ছিল সিনেমার পোস্টারের দিকে। হলে না ঢুকে হলের ফটকের ওপরে টানানো পোস্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পোস্টার দেখতেন। মুগ্ধ চোখে নায়ক-নায়িকাদের ছবি ও তাঁদের অঙ্গভঙ্গি দেখতেন। এভাবে দেখতে দেখতে পোস্টার আঁকিয়ে হওয়ার ভূতচাপে মাথায়।
9855c6c6fd7d35efc0611e6f18700b2e-jhantu-artjpg
 
১৯৬৮ সালের দিকের কথা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ জহির রায়হান তখন ঢাকার কায়েতটুলীতে থাকতেন। ঝন্টুরা থাকেন আলাউদ্দিন রোডে। জহির রায়হান তখন জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রের কাজ সবে শুরু করেছেন। সাহস করে একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন ঝন্টু বলেন,’’আমি সিনেমার পোস্টার আঁকতে চাই।‘’
ঝন্টুর হাতের লেখা ছিল সুন্দর।তাই দেখে জহির রায়হানের পছন্দ হলো। সে পর্যন্তই। স্বাধীনতার পরপরই নিখোঁজ হন জহির রায়হান। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রের পোস্টার আঁকার সুযোগ হলো না ঝন্টুর। এবার তিনি নায়ক রাজ্জাকের কাছে গিয়ে ইচ্ছার কথা জানালেন। তখন ঝন্টু ঢাকা আর্ট কলেজে পড়েন। তাই আত্মবিশ্বাসও প্রবল। রাজ্জাক তাঁকে কাজ দিলেন। ১৯৭৪ সালে প্রথম পোস্টার আঁকলেন রংবাজ চলচ্চিত্রের। পারিশ্রমিক পেলেন ১০০ টাকা।রংবাজ দিয়ে ঝন্টুর সিনেমার পোস্টার আঁকা শুরু।
 
১৯৭৩ সালে নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করেন  ঝন্টু আর্ট পাবলিসিটি। এর ব্যানারে একে একে আঁকলেন মালকা বানু, অবাকপৃথিবী, এক মুঠো ভাত, জীবন সংগীত,মাটির মানুষ, মনিহার, জয়-পরাজয়,বধূবিদায়, কথা দিলাম, রাজা-রানী,দস্যুরানী, ডাকু মনসুর, সওদাগর,রূপবান, রাখালবন্ধু, অভিযান, রাজা,মিস্ত্রি, সমাধি, নিশানসহ সাত শতাধিক চলচ্চিত্রের পোস্টার। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এঁকেছেন প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছবির পোস্টার।
বর্তমানে ডিজিটাল প্রেসের কল্যাণে হাতে আঁকা সিনেমার পোস্টার তার উপযোগিতা হারিয়েছে। তাই বলে বসে নেই রফিকুল হক ঝণ্টু। তিনি একজন বাংলা গানের সংগ্রাহক।
 
ঝন্টুর সংগ্রহে আছে পুরোনো দিনের বাংলা গানের দুর্লভ সব রেকর্ড, বাংলা গানের এক বিশাল সংগ্রহ তাঁর কাছে।তাঁকে গানের চলন্ত বিশ্বকোষবললেও বেশি বলা হবে না। দুই বাংলার প্রায় ২০০ শিল্পীর বিচিত্র ধারার গানের আসল রেকর্ডের সংগ্রাহক তিনি। ১৯০৯ থেকে ১৯৯৬ সাল এই সময়কালের  প্রায় ১৫ হাজার গানের রেকর্ড (ডিস্ক) তাঁর সংগ্রহে আছে। বেশির ভাগ গানের বিস্তারিত তথ্য তিনি লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।  
উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ.
 
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করা আজি হতে শতবর্ষ পরেকবিতাটির রেকর্ড আছে ঝন্টুর কাছে। এইচএমভি থেকে প্রকাশিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গাওয়া ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলিগানটির আসল রেকর্ড। আরও আছে তুলসী লাহিড়ীর কথা ও সুরে কমলা ঝরিয়ার কুল মজালি ঘর ছাড়ালি’ (১৯২১), নজরুলের লেখা ও সুরে আঙ্গুরবালার কেমনে রাখি আঁখি বারি চাপিয়া’ (১৯২১), আব্বাসউদ্দীনের লাইলী তোমার এসেছে ফিরিয়া’ (১৯৩৮), নজরুলের লেখা ও শৈলেশ দাশগুপ্তের সুরে কুমারী রমলা মজুমদারের গাওয়া চৈতি চাঁদের আলো আজ ভালো নাহি লাগে’ (১৯২১), অনন্ত বালা বৈষ্ণবীর গাওয়া আমার মনে যারে চায়/ তারে কি ভুলিতে পারি লোকেরই কথায়’ (১৯২৬)।
 
চলচ্চিত্রের গান-
 
মুখ ও মুখোশ-এর দুটি গানের আসল রেকর্ড। আবদুল গফুর সারথীর লেখা ও সমর দাসের সুরে আমি ভিন গেরামের নাইয়াশিরোনামে একটি গান গেয়েছেন আবদুল আলীম। এ ছাড়া এ দেশ তোমার আমার (১৯৫৯), নতুনসুর (১৯৬২), বেদের মেয়ে (১৯৬৮), পাতালপুরীর রাজকন্যা, বাল্যবন্ধুসহ (১৯৬৯) অন্তত ২০০ চলচ্চিত্রের গান তাঁর সংগ্রহে আছে।
নোটিশ :   FeniVision24.com প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন, সম্পাদক: জহিরুল হক মিলু
ইমেইল : fenivision@gmail.com, মোবাইল: 01823644138, 01841710509
ঠিকানা: ৪৩১ সোনালী ভবন(২য় তলা) ট্রাংক রোড়, ফেনী